১ম বর্ষ,৫ম সংখ্যা,১৫ ই জুন ,২০১৪। ১লা আষাঢ়,১৪২১

১ম বর্ষ,৫ম সংখ্যা,১৫ ই জুন ,২০১৪। ১লা আষাঢ়,১৪২১
Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Sunday, June 15, 2014

অনাদ্য দুঃখ নদী


অনাদ্য দুঃখ নদী
____মিশকাত উজ্জ্বল____

আমার আকাশে পূর্ণিমার মত জোছনাময়ী চাঁদ নেই,
তারা নেই_
জীবনানন্দ দাসের 'সোনালি ডানার চিল'
কুহুকুহু বসন্তের কোকিল
বিরক্তিকর কা কা করার মত দু'একটি কুশ্রী কাক
প্রত্যাখ্যাত প্রেমের পুঞ্জীভূত দহনে অন্তর পুড়ে খাক

আধারাকীর্ণ একাকীত্ব আমায় কুরে কুরে খায়
জীবনের বাঁকে বাঁকে কেবলই না-পাওয়ার দুঃসহ বেদনার স্মৃতি নীরবে কাঁদায়
অন্তরজুড়ে সাহারা মরুভূমির মত সীমাহীন হাহাকার
দুঃখ কুড়াতে কুড়াতে অপস্রিয়মাণ সুখের ভাণ্ডার
কষ্ট সয়ে সয়ে পর্বতবৎ মন
বঞ্চনার তুষারপাতে আচ্ছাদিত ঈশ্বরপ্রদত্ত দেহধন!

হিমালয়ের বরফের মত দুঃখ গলে গলে পড়ছে তাই
আমার হৃদপিণ্ড থেকে নিরবধি...
আমি যেন অনাদ্য দুঃখ নদী

ভ্রান্ত বিলাস এর স্মৃতির চাবুক


 স্মৃতির চাবুক
 --ভ্রান্ত বিলাস

যার কেউ নেই তার তমিস্রা রাত
ফাঁকা বুকে ঝড়ো দীর্ঘশ্বাস ।
আমার দৃষ্টি সীমায় তোমার বিচরণ
হৃদস্পন্দন কতোটা বাড়ায়
তা কখনো বুঝনি,
বুঝনি ক'ফোঁটা অশ্রু
মাটিতে পতনের আগেই
কিভাবে শুকায় !
আমি আছি,আমার ভেতরে তুমিও ,
ইহ-ত্যাগী হব তোমাকে নিয়েই ।
যন্ত্রণার স্মৃতির সততা থাকতে নেই ,
এদের প্রতারক হওয়া উচিৎ।
হৃদয়ের পাড় ধরে বেড়ে উঠছে কষ্টের পরগাছা
বেদনার বর্ণমালা খচিত তোমার প্রতিটি স্মৃতি ,
ধুলোদাদার বাতাসযোগে সর্বত্র বিচরণ
স্মৃতির পরতে জমে থাকা তার বেমানান ।
আমি বাতাসের সখা হব
ছায়ার সাথে রব ,
আঁখি জলে নেয়ে
স্মৃতিতে সাঁতরাব

যে গন্ধ মগ্নতা আসে


যে গন্ধ মগ্নতা আসে[১৫]
বৃষ্টি ও সকালের পদাবলী~

এমন বৃষ্টি ভরা সকালে
একটা স্নিগ্ধ গানের রেশ থেকে যাক,
ঘুম জড়ানো আবেশ ছেড়ে
বঁধুর হাতে গোপীচন্দন ভরে থাক,
আমি হারাই, আপনারে হারাই
 --
আপনা ভুলে ।

শান্ত আঁখিতে নেমে আসে শুদ্ধতা,
জলপাই রঙের শাড়ি
শুষে নেয় জল-ভেজা চুল,
ঈশ্বরও জানি আজ নতজানু হয় !
হৃদয়ে হৃদয় ঝংকার ওঠে ।

বৃষ্টি আজ সারাদিন হোক,
হৃদয়ে হৃদয়ে মগ্নতা ছেয়ে যাক,
চন্দন সৌরভ পাঁচিল ভেঙে  দিগন্তে মিলাক,
আমি ওমকারে জেগে ওঠি ।

https://ssl.gstatic.com/ui/v1/icons/mail/images/cleardot.gif
যে গন্ধে মগ্নতা আসে[১৪]
অস্ফুট গান~

একদিন জ্যোত্‍স্নার গানে মত্ত থেকেছি
একাদশী কিংবা দ্বাদশীর রাতে
উদাসী হাওয়ায় ঘুরে ঘুরে-
পথের বাঁকে ঝরাপাতা
চন্দ্র-স্নানে ডুবে আছে ।

তোমার আমার কথোপকথন গুলো
কেউ জেনে যাবে বলে
হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিই একদিন,
সমস্ত ইন্দ্রীয় জেগে ওঠে আর
পিপাসিত শব্দের কান্নায় আমি ভেসে যাই ।

আমার কোন স্বরলিপি নেই,
আমার কোন কথা নেই,
কোন গান নেই,
কোন সুর নেই,
শুধু আছি আমি
নির্জন জ্যোত্‍স্নায় তাল-লয়হীন আর
তুমি কিংবা তোমার ঝরে যাওয়ার অস্ফুট শব্দরা ।

যে গন্ধে মগ্নতা আসে[১০]
প্রতি সত্তা~

মাধবীগুচ্ছো ফুটে আছে থরে থরে-
অন্তর দহন শেষে স্নিগ্ধ বৃষ্টির জলে সিক্ত হয়েছে,
তবু আমি দূরান্তের স্বাতী খুঁজে যাই ।

এখনও আষাঢ়ী গান ভেসে আসে
থৈ থৈ  প্লাবন জলে হংসমিথুন খেলে যায়,
কাদা মাটির সোঁদা গন্ধে
ভরে আছে বুক
তবু তুমি,
তুমি দূর অদৃশ্য থেকে বিরহ আমার দেখে যাও ।

শুধূ খুঁজে যাই
র্স্পশহীন মাধবীর ঘ্রাণে
বিগলিত জ্যোত্‍স্নার ঢেউয়ে
তুমি কিংবা তোমার প্রতি সত্তা ।

https://ssl.gstatic.com/ui/v1/icons/mail/images/cleardot.gifফেরার প্রতীক্ষায়~

তোমার চলে যাওয়ার পর
নিস্তরঙ্গ জলের ঢেউ খুঁজি ।
ঝিমিয়ে যাওয়া হৃদয়ে মেঘদূত
এসে বলে না আর,
চলো ঘরে ফিরে যাই ।

আমি এক আকাশ তারা গুনি
তোমার ফেরার প্রতীক্ষায় ।

যে গন্ধে মগ্নতা আসে[৬]
একাকার~


আমার উচ্ছন্নে যাওয়ার দর্শন খুঁজে বেড়াই
ইতিহাসের পাতা জুড়ে কালো রঙ -এর বর্ণগুলো
প্রতিনিয়ত ভাবনায় ফেলে দেয় ।
মাটির মধ্যে থাকতে থাকতে
কখন যে মাটিতেই মিশে গেছি
আমার উদ্ভিন্ন যৌবন
সে কথা-ই বলে যায় ।

মাঝে মাঝে সব কিছু ভুলে যাই,
জন্ম নক্ষত্রে কর্কট ভর করে আছে বলে-
সীমাহীন যন্ত্রনা কুড়ে কুড়ে খেয়ে যায় ।

আমি দর্শন খুঁজি
কিভাবে নেতিয়ে পড়েছে
গুলঞ্চ লতাটা
হয়তো একদিন প্রাণ ফিরে
সেও পৌঁছে যাবে
ক্রান্তিয় রেখায়;
তখন হয়তো কালো বর্ণের অক্ষর গুলো
নতুন পাতায় লেখা হবে
অথচ আমি ;
আমি এক মুর্তিহীন অশরীরীর পানে চেয়ে চেয়ে,
আমার দর্শন, ভালোবাসা,
আমার মাটি সব একাকার হবে ।

-হরিশঙ্কর রায়
কৃষ্ণকুঞ্জ, রংপুর ॥