১ম বর্ষ,৫ম সংখ্যা,১৫ ই জুন ,২০১৪। ১লা আষাঢ়,১৪২১

১ম বর্ষ,৫ম সংখ্যা,১৫ ই জুন ,২০১৪। ১লা আষাঢ়,১৪২১
Showing posts with label অনুকাব্য. Show all posts
Showing posts with label অনুকাব্য. Show all posts

Monday, April 14, 2014

রঙিন ইউনিফর্ম



রঙিন ইউনিফর্ম
আবু সোলাইমান দারানি

লাল, নীল, রঙিন –
রঙের বাহার
ওরা চলছে –
কেউ মায়ের সাথে, কেউ বাবার হাত ধরে।
চার-পাঁচ মাইল
রোজ প্রতিদিন।
শুধু রবিবার ছুটি।
নীল গগনের সাথে মিশে যায়
কখনও বা পাহাড়ি ঐ
রডডেনড্রনের সাথে।
সবই ঐ-
বাহারি ইউনিফর্ম

দুটি(অণু-কবিতা)

সভ্যতা/হরিশঙ্কর রায়


আমাকে ঘিরে আমার প্রতিচ্ছায়া
আলো-আঁধারিতে
কেঁপে কেঁপে ওঠে,
প্রেম পথে হেঁটে হেঁটে
সভ্যতার বিকাশ খোঁজে ।
প্রতিচ্ছায়া, 'আমিই সভ্য প্রেমিক' ।
একবার ছুঁয়ে দেখোই না !


এই তোমাকে ছুঁয়ে দিলাম !
রক্তবীজে জন্ম নিচ্ছে অনাগত,
থরথরিয়ে কাঁপছে সভ্যতা ।

২৯.০৩.১৪ খ্রিঃ
কৃষ্ণকুঞ্জ, রংপুর ।

Saturday, March 15, 2014

দু'জনে একাকার

দু'জনে একাকার
____মিশকাত উজ্জ্বল____

হই যদি তুমি আমি দুজনেই একা
কেন তবে অহেতুক দূরে দূরে থাকা?
এসো দু'জনে বিরহময় একাকিত্বকে,
নৈশব্দময় নিঃসঙ্গতাকে জানিয়ে আড়ি
প্রণয়ের যুগল নদী_ একসাথে দেব পাড়ি

যেভাবে ভ্রমর ছুটে যায় ফুলের ঘ্রাণে
নদীও নিমন্ত্রিত অতিথি হয় সাগরের টানে
যেভাবে ঝিনুকে মুক্তা লুকিয়ে থাকে,
চাঁদের বুকে জোছনা
যেভাবে দুটি নদীর মিলনে হয় মোহনা_

সেভাবে আমরাও একাকার হব
এসো দু'জনা...

অনন্তকাল

             অনন্তকাল
----
নুরুল আমিন শিশির

তুমি ভাবছো হয়তো,
তোমাকে পেতে আমার অনন্তকাল
কেটে যাবে।
তুমি দেখছো হয়তো,
অদূরে সীমানায় দাঁড়িয়ে
আমার বর্তমান কে।
তুমি খুঁজছো হয়তো,
আমার মাঝে তোমার উপলদ্ধিতাকে।
তুমি শুনছো হয়তো,
আমার মনের গভীরতা কে।
তুমি আর আমি কে কাকে চিনি?
অথচ তুমি আমি দু'জনাতে
অসীম সুখ খুজি-
আমার অতৃপ্ত কথাগুলো
যতবার তোমায় বলতে চাই,
ততবারই অস্বচ্ছ এক দেয়াল
সামনে এসে দাঁড়ায়।
হৃদয়ের শূনতা কেন যে,
এতো যাতনা দেয়?
ভালোবাসার কথাটি
বলতে পারি না তাই
কেউ কাউকে।
তোমাকে ভালোবাসতে যাবো ঠিক
তখনি তাড়া করে ভয় বিশ্বাসের
মৃত্যু যদি আতুড়ে ঘরে হয়ে যায়
তবে মন দিয়েও কিছু হাবার নয়

লাসভেগাসে একদিন

লাসভেগাসে একদিন 
// ইকবাল রাশেদীন 

ছুঁড়ে মেরেছি মুদ্রাটি শূন্যে
হেড হলে তুমি, টেইল হলে না ।

বনবন করে লাটিমের মতো ঘুরছে ধাতব মুদ্রা
সেই সাথে ঘুরছে 
গ্রহ, নক্ষত্র, আকাশ, বাতাস- 
ঘুরছে তাবৎ পৃথিবী আমার ।

কোত্থেকে এক চতুর চিল এসে তখন
ছোঁ মেরে নিয়ে গেল
ভাগ্য নির্ধারণের ঘূর্ণায়মান জুয়াড়ী কপাল ।

তুমি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লে, আমিও;
কার দীর্ঘশ্বাসে কষ্ট বেশী ছিল

জানা হল না - আজও । 

Thursday, February 13, 2014

সাদাত চৌধুরীর অনুকাব্য

1. তোমাকে চিনতে বড্ড কষ্ট হয় 
সেই আগেরটি তুমি আর নেই ,
রুপময়তা, সৌন্দর্য, সৌঠব যাই বলি
কিছুই নেই সেই আগের মতন 
অথচ তোমার রূপের পাগল কে না ছিল?

আজ বেয়াল্লিশ বছর বয়সে _
ছিন্ন বস্রে, ক্ষত বিক্ষত তুমি।
ছেড়া পতাকায় সম্ভ্রম ঢাকার চেষ্টা 
ক্ষুধার্থের তীক্ষ্ণ চাহুনি, রক্তগঙ্গা চারিদিক।
স্বাধীনতার হিংস্র ছোবল তোমার দেহে
মুক্ত হানাদারের নিত্য থাবা তোমার সতীত্বে।

শহিদদের আত্মা কাঁদছে (নিরন্তর)
ধিক্কার দিচ্ছে কবর থেকে।
নিজেকে আজ বড্ড অসহায় লাগছে_
দগ্ধ মন পীড়া দেয় অহরহ
দিতে পারিনি তোমার যথার্থ সম্মান
হে আমার বাংলা_
কি চেয়েছিলে তুমি , পেয়েছ কি তা?
সাম্য সম্প্রীতি তোমার বুকে
পেরেছ কি স্বাধীন হতে আজও?
সাদাত চৌধুরী/
কবিতাঃ আমার বাংলা 
২।
ন্যায়নীতি ধর্ম কর সৎকর্ম
সঠিক সরল পথ পাড়ি দাও সব 
মাতৃভক্তি আরাধনায় ব্রত কর বোধ। 
পাইতে স্বর্গের দেখা সেবা কর তাঁর 
বিধাতা পরে আছে যার মান
পরম মমতাময়ী মাতা তাঁর নাম।

আদরে যতনে ভক্তি চিত্তে
কর সেবা তাঁর অতি সযত্নে।
কোরআন হাদিস মাঝে আছে যে বাণী
স্বয়ং বিধাতা তাঁকে করেছেন সম্মানী।
সংসার মাঝেই তোমার স্বর্গ বিরাজ
মায়ের সেবা করে মিটাও তোমার আশ ।

যদি কর তাঁর যথার্থ সমাদর
জান্নাত মিলিবে তোমার পদতলে মা'র
আখেরাতের চাও যদি করিতে হিত
মায়ের সেবা করে কর তাঁর বিহিত ।
পরকালে পাইবে তুমি তার সম্মানী।

কত জ্ঞানীগুণী কত ধনী মানি
ক'জন করিতে পারি মায়ের যথার্থ খাতির
নিজ স্বার্থে ব্যস্ত থাকি সকলে
মায়ের অবদান জীবনে যাই যে ভুলে।
অসম্মান করিলে তাঁকে করিলে অবজ্ঞা
একুল ওকুল যাইবে তোমার হারাবে পরকাল
কামাতে পুণ্য পার্থিব পুঁজি
বিধাতা'পরে মাতৃ সেবায় হও ব্রতচারী।

কবিতাঃ মাতৃভক্তি
৩।

তুমি হীন, মেঘ ভিড় করে মনের আকাশে 
ভারি হয়ে আসে নিঃশ্বাস দেহের। 
তুমি বিনা পুর্ণ শশীর স্নিগ্ধ চন্দ্রিমাও ম্লান 
হাজারো কথা ভাসে হৃদয় মাঝে। 
স্মৃতির ক্ষরণ যাপিত দলন 
কালের আবর্তন, জীবনের পাতায় তোমাকে খুঁজি।

আমার সত্তা জুড়ে যে টুকু ছিলে তুমি 
আজও সাজিয়ে রেখেছি তেমনি । 
মনটাকে পুষি কেমনে? অবুজ পাখি সে 
একটু ভরসা খুঁজেছিল তোমার মাঝে,
তুমি বুঝলেনা মনের ভাষা।
মনের আকাশে তাকিয়ে দেখলেনা
তোমারই প্রতিচ্ছবি আঁকা ছিল সেখানে ।

যদি কখনও দৃষ্টি দাও নীল গগন পানে
দেখে নিও তোমার আমার ভালোবাসা
যার বসবাস সেই নীলের মাঝে
তুমি চলে গেলে রেখে গেলে কষ্টগুলো
এতো কষ্টের মাঝেও ভালোবাসা জন্মে তোমার জন্য।

কবিতাঃ কষ্টের মাঝেও ভালোবাসা জন্মে 

৪। 
নিশীথ রাত, জেগে আছি
নিকষকৃষ্ণে দেখছি তোমাকে মনের আরশিতে,
প্রশান্তির নিষুতি মাঝে তন্ময় তুমি
স্বপ্নমাখা নিষুপ্ত নয়নে।
আর নিঘুম আমি......

বাহিরে নিশাচরদের খুটখাট শব্দ
দূরে কোথাও হুতোম ডাকছে
জোনাকিরা ব্যস্ত প্রণয় সোহাগে। 
কবিতার শব্দগুলো মগজে ঠুকাঠূকি করছে, 
লিখতে ইচ্ছে হচ্ছেনা, ভাবতেই ভাল লাগছে।

ভাবছি তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখব
কি রূপকে তোমাকে সাজাবো
আজও স্থির করতে পারিনি।
ছন্দ গুলো এলোমেলো, পথ হারাচ্ছে
না না তুমি ভেবনা, আমি ঠিকই লিখে ফেলব
তোমাকে নিয়ে আমার কবিতা।

যে দিন তুমি পাশে আসবে
ছন্দগুলো আমার অলঙ্কার পাবে
পুর্ন হবে আমার কবিতা।