১ম বর্ষ,৫ম সংখ্যা,১৫ ই জুন ,২০১৪। ১লা আষাঢ়,১৪২১

১ম বর্ষ,৫ম সংখ্যা,১৫ ই জুন ,২০১৪। ১লা আষাঢ়,১৪২১
Showing posts with label খোলা কলাম. Show all posts
Showing posts with label খোলা কলাম. Show all posts

Saturday, June 14, 2014

বাবাকে নিয়ে খোলা চিঠি


evev---wK wjwL †Zvgvq
wPý Ze c‡o Av‡Q, Zzwg †n_v bvB|

Bjv gyrmyÏx
‡`L‡Z †`L‡Z cy‡iv GK eQi †kl n‡q G‡jv| GL‡bv wek¦vm nq bv Zzwg †bB| GUv wKfv‡e m¤¢e? g‡b nq †mB Zzwg KLb Avwg †Zvgv‡K †dvb Kie †mBRb¨ A‡c¶v Ki‡Qv| Rvb evev --- †Zvgv‡K wb‡q A‡bK wKQy wjL‡Z B‡”Q Ki‡Q| wKš wjL‡Z cviwQ bv| ev¯eZv eoB wbôzi| ‡Kb †Zvgv‡K Avgv‡`i Rxeb †_‡K wQwb‡q wbj g„Zz¨ bvgK `vbeUv? Avgv‡`i Avi KxBev iBj? gvI †bB, ZzwgI †bB| †Zvgiv Qvov cy‡iv Ni k~b¨Zvq ficyi| Rxe‡b GZ †ekx w`‡qQ Avgv‡`i hvi wmwKfvM †kva Kivi mvg_©¨ Avgv‡`i †bB| †mB Zzwg Avgv‡`i wcÖq evev| hv‡K wb‡q GKUv Kjvg wjL‡Z †P‡qwQjvg| †f‡ewQjvg Gev‡ii evev w`e‡m KjvgwU wj‡L †Zvgv‡K Pg‡K †`e| †K RvbZ wbqwZ Avgvi GB cwiKíbv †`‡L nvmwQj| evev Zzwg Avgv‡`i Lye Lye wcÖq wQ‡j| GLb wPšv Ki‡j †`wL †mB ˆkkeKvj †_‡K †Kvbw`b Zzwg Avgv‡`i fvB-†evb‡`i nq‡Zv eKv w`‡qQ GKUz AvaUz wKšZvi PvB‡Z †ekx wKQy Kiwb| Zzwg Avgv‡`i w`‡qwQ‡j ¯^vaxbZv, ‡jLvcov Kivi Aeva my‡hvM| my‡hvM GB Kvi‡YB ejwQ --- Avgiv †Zv MÖv‡gB eo n‡qwQ| ZviciI †Zvgvi mr, Av`k©ev`xZv Ges AvaywbK gb-gvbwmKZvi Kvi‡Y AvR Avgiv GZ`~i Avm‡Z †c‡iwQ| Avgiv `yB †evb‡K Zzwg KLbI †Q‡j‡`i PvB‡Z †QvU K‡i †`Lwb| memgq gv-‡K ej‡Z ï‡bwQ ÓAvgvi †g‡q‡`i w`‡q †Kvb KvR Kiv‡e bv, Iiv ïay co‡eÓ| n¨uv evev A‡bKUv c_ AwZµg K‡i G‡m eyS‡ZwQ †Zvgvi wm×vš mwVK wQj| mwVK wQj e‡jB Avgiv Pvi fvB †evb †ZvgviB Av`‡k© AbycÖvwYZ n‡q gvbyl n‡qwQ| Zzwg ¯^vaxbZv w`‡qwQ‡j wVKB wKš kZ©I w`‡qwQ‡j| Avgiv †mB kZ© †g‡bwQjvg e‡jB GZ`~i Avgv‡`i AMÖMwZ| Zzwg LyeB শান্ত্ব ¯^fv‡ei wQ‡j| Zzwg Rvb bv evev --- †Zvgvi g„Zz¨i ci mevB †Zvgvi Rb¨ †Pv‡Li Rj †d‡j‡Q| MÖvgevmx †_‡K ïi“ K‡i mevB †Zvgv‡K †h GZ fv‡jvev‡m †mUv †Zvgvi g„Zz¨i ci Avgiv Rvbjvg| M‡e© Avgv‡`i eyK f‡i hv‡”Q evev Ggb wcZvi mšvb Avgiv †h wcZvi mybvg myL¨vwZi Rb¨ mK‡ji ü`‡q †evev Kvbœv Pj‡Q|

evev-`yB A¶i GKwU kã| †QvÆ GB A¶‡i i‡q‡Q Acwimxg ggZv Avi †স্ন‡ni cik| Avgvi evev Avgvi `„wó‡Z AmvaviY GKRb gvbyl| LyeB mv`vwm‡a, ag©civqb| Avgvi evev‡K †`‡LwQ †Kvbw`b Avgv‡`i-‡K †Kvb wel‡q KovKwo kvmb Ki‡Zb bv| LyeB Av`i, ‡স্নn w`‡q Avgv‡`i gvbyl K‡i‡Qb| evev‡K KL‡bv †`wLwb, Avgv‡`i †Kvb fvB-‡evb‡K gvi‡Z| Avi Avgiv †Kvb Lvev‡ii wRwbm cQ›` n‡q‡Q ej‡j n‡e, hZw`b পর্যন্ত H Lvev‡i weiw³ bv Avm‡e ZZw`b Dwb Avgv‡`i Rb¨ cQ‡›`i wRwbmwU Avb‡ZB _vK‡e| evev Avevi Avgv‡`i cov‡jLvi e¨vcv‡i LyeB m‡PZb wQ‡jb| Avgv‡`i memgq ej‡Zb, hvB K‡iv bv †Kb, cov‡jLvUv wVK ivL‡e| †Zvgv‡`i Rb¨ †Kvbw`b Avwg ®‹z‡j, wKsev K‡j‡R wM‡q cvk Kiv‡bvi mycvwik Ki‡Z hve bv| Avgv‡`i mg‡q K‡j‡R LyeB KovKwo wQj| †Kvb QvÎ-QvÎx †dj Ki‡j Awffve‡Ki Kv‡Q wPwV P‡j †h‡Zv| AwffveK‡K ˆKwdqZ w`‡Z n‡Zv - †Kb †Q‡j ev †g‡q cix¶vq Lvivc †iRvë K‡i‡Q? Avgvi evev Avgv‡`i †h Dc‡`k w`‡q‡Qb, †mB Dc‡`k †g‡b P‡jwQ e‡jB nq‡Zvev †Kvbw`b evev-‡K ®‹zj wKsev K‡j‡R †Q‡j-‡g‡q‡`i Rb¨ mycvwik Ki‡Z †h‡Z nqwb| hLb †h eB †P‡qwQ, †mUvB evev G‡b w`‡q‡Qb| †Kvbw`b bv e‡jbwb| Gfv‡eB evev Avgv‡`i gvbyl K‡i‡Qb| Av‡iv GKUv j¶¨Yxq welq wQj, Avgvi gv-evevi g‡a¨ wQj Lye আন্তরিকতা ।evev gv-‡K †Kv_vI †h‡Z w`‡Zb bv| hw`I ev †h‡Z n‡Zv, w`‡b w`‡b P‡j Avm‡Z n‡Zv| wiUvqvi Kivi ci evev evox‡ZB _vK‡Zb| evevi GKwU Kz-Af¨vm wQj aygcvb Kiv|  Avgiv mevB GZ †Póv Kivi c‡iI GB Af¨vmwU Qvov‡Z cvwiwb| 2007 mv‡j gv nVvr K‡i Avgv‡`i-‡K †Q‡o P‡j †M‡jb| ‡mB †_‡K evev LyeB wbtm½ n‡q †M‡jb| evevi Rb¨ LyeB Kó n‡Zv । কিন্তু  Avgv‡`i wKQyB Kivi wQj bv| Kg©‡¶‡Î mevB ব্যস্ত। B‡”Q Ki‡jI evevi cv‡k memgq _vK‡Z cvwiwb wKsev _vKv hvqwb| KviY gv Qvov c„w_ex‡Z evevB Avgv‡`i GKgvÎ Aej¤^b wQj| †mB evevI MZ 5 Ryb nVvr K‡i gv-i gZb Avgv‡`i †Q‡o P‡j †M‡Qb|
gv-evevnxb c„w_ex‡Z †eu‡P _vKv mšvb‡`i Rb¨ LyeB K‡ói| †mUv Avgv‡`i gZ hviv f~³‡fvMx ZvivB eyS‡Z cvi‡e Avi †KD bq|
Gfv‡e ejv hvq evevi  K_v| wKš AvR meB bxie-নিস্তব্ধ ¯§„wZ †Kej| Zey ÓZzwg AvR †bBÓ K_vUv wek¦vm Kiv †hb eo KwVb| g„Zz¨‡Z I Ggb gvbyl g‡i bv| dzwi‡q hvq bv KLbI| Ó¯§i‡Yi Avei‡bÓ evev Avgv‡`i gv‡S wPiw`b †eu‡P _vK‡e|
Kwei fvlvq ZvB ejwQ t         
                       Awebvkx w`b Rv‡b, ivZ Rv‡b
Rvb‡Z Rvb‡Z GLb cy‡iv MÖvg Rv‡b
‡Zvgv‡K Avgvi PvB‡Z †ekx †KD fv‡jvev‡m bv|

 


‡jLK t Kjvg †jLK I cÖvewÜK 

Thursday, May 15, 2014

মা কে নিয়ে লেখা ইলা মুৎসুদ্দী এর খোলা চিঠি

যে চিঠি কখনো পৌঁছুবে না
                                               ইলা মুৎসুদ্দী 
মা,
তুমি কেমন আছো? ঐ দূর আকাশের নীলিমায় তারা হয়ে কিভাবে আছো মা? তোমার কি কখনো ভুলেও মনে পড়ে না তোমার অসহায় ছেলে-মেয়েদের কথা? যাদের তুমি সবসময় বুকে আগলে রেখেছিলে শত সহস্র ঝড় ঝাপটা সয়ে। কখনো একটুখানি আচড় লাগতে দাওনি কারো গায়ে। মা তুমি তো ছিলে গ্রাম্য এক গৃহবধূ। যাঁকে গাইড করার মতো একজন কেউ ছিল না। সবসময় দেখতাম তুমিই বাবাকে গাইড করতে। সবকিছু এত সুন্দরভাবে ম্যানেজ করতে সবাই তোমার প্রশংসায় ছিল পঞ্চমুখ। তোমার সবচাইতে বেশী পছন্দ ছিল মানুষকে খাওয়ানো। তোমার পিঠা বানানোর কথা তোমার মৃত্যুর দিন শবানুষ্টানে সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেছে। তোমার উদার দানশীল মন মানসিকতার জন্য সবাই তোমাকে খুউব পছন্দ করতো। গ্রামবাসী সবাই কোন সমস্যায় পড়লে আগে তোমার কাছে ছুটে যেত। সেটা কোন অসুখ হোক কিংবা কোনকিছু ধার দেনা হোক। জানো মা, তুমি চলে যাওয়ার পর সবাই প্রতিদিন, প্রতি ক্ষণ তোমাকে, তোমার সু-কর্মগুলোকে স্মরণ করে। যখনি গ্রামে যাই, সবার কাছে শুধু তোমার প্রশংসা শুনি। তখন গর্বে আমাদের বুক ভরে যায়। তোমার মত মায়ের গর্ভে জন্মেছি সেও নিশ্চয়ই কোন সুকর্মের প্রভাবে। আচ্ছা মা তুমি কি দেখতে পাও তোমার সন্তানদের? তোমাকে ছাড়া আমাদের কি অসীম দুঃখ, বেদনা হাহাকার তা তুমি বোঝ না? কেন তুমি আমাদের মাঝে আবার চলে আস না?  তুমি যখন আমাদের কাছে ছিলে তখন আমরা এই কষ্টটা কখনো বুঝিনি। কখনো ভাবিনি এত তাড়াতাড়ি তোমাকে হারাতে হবে। জানো মা সন্তানদের কাছে সবচাইতে কষ্টের জিনিস কি? তা-হলো অসময়ে মা-কে হারানো। তুমি সবসময় বাবার কথা চিন্তা করতে। অথচ তুমিই বাবাকে একা ফেলে আগে চলে গেলে। যদি তোমার যাওয়ার সময় হতো তাহলে আমরা মেনে নিতাম। এখনতো মনকে কোনভাবেই বুঝাতে পারি না। তুমিহীনা সেই ঘরে আর যেতে ইচ্ছে করে না। আমরা কেউ বাড়িতে যাচ্ছি শুনলে, আগেই পথের সামনে দৌড়ে এসে দাড়িয়ে থাকতে। আর আমাদের দেখে উচ্ছসিত হয়ে বুকে জড়িয়ে ধরতে। এখনতো কেউ আসে না। সবসময় তোমার জন্য প্রাণ কাঁদে। একা একা কান্না করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আগে তুমি ছিলে। তোমাকে সব কথা বলতাম। এখন কাকে বলব মা? সবার বড় সন্তান হওয়াতে আমাকে বেশী আদর করতে। বিয়ে হওয়ার পর থেকেই একমাত্র আমিই তোমাকে না দেখে থাকতে পারতাম না বলেই প্রায় প্রতি সপ্তাহে তোমাকে দেখতে যেতাম। এক সপ্তাহ দেরী করলে তোমার ভিতর ছটফটানি শুরু হতো। সাথে সাথে আমার ভিতরও একধরণের হাহাকার শুরু হতো। যখনি আবার তোমার সামনে যেতাম, সবকিছু ঠিক হয়ে যেতো। এখন শত হাহাকারে বুক ভেঙ্গে গেলেও তোমাকে দেখার উপায় নেই। মা-তুমি তো বলতে তোমাকে অমুক বলেছে, তোমার মেয়ের লিখা উঠেছে পত্রিকায়। তুমি কত খুশি হয়ে আমাকে বলতে। আজ তোমাকে নিয়ে লিখছি মা--- তুমি কি খুশি হয়েছো মা? কেন আমাকে আজ লিখার কাঠগড়ায় দাড় করালে? আমরা চার ভাইবোনকে প্রতিষ্টিত করে দিয়ে তুমি চলে গেলে। মা জানো, টুটু খুব দুঃখের সাথে বলেছে, আজ যদি আমাদেরকে লেখাপড়া না শিখিয়ে বকলম বানিয়ে রাখতে তাহলে তোমার চলে যাওয়ার সময় আমরা ভাইবোনেরা হয়তো তোমার পাশে থাকতাম। আমরা তোমার এমন দুর্ভাগা সন্তান চলে যাওয়ার সময় একটা সন্তানের মুখও দেখে যেতে পারোনি। তারপরও তুমি অনেক পূণ্যবান মা। (২০০৬ সালের ৯ই ফেব্র“য়ারী) কাউকে একটুও কষ্ট না দিয়ে মিনিটের মধ্যেই সবকিছু শেষ করে দিয়ে চলে গেলে। বাবাও বুঝতে পারেনি মা তুমি যে চলে গেছ। তোমার জন্য বাবা এলোপাতাড়ি দৌড়ে গিয়ে ডাক্তার ডেকে এনেছে। তখন তো সব শেষ মা। আগের সপ্তাহে তোমার সাথে দেখা করে এসেছি। সেই দেখা যে শেষ দেখা হবে বুঝতে পারিনি মা। তুমি আমার জন্য পিঠা বানিয়ে রেখেছিলে। আমাকে আদর করে ভাত খাইয়েছ। আবার আমার ব্যাগ হাতে নিয়ে আমাকে গাড়ীতে তুলে দিয়েছ। জানো মা, সেদিন তোমাকে দেখে আসার পর থেকে আমার মনে একটা দাগ কেটে গিয়েছিল। আমার থেকে সবসময় মনে হয়েছে তোমার মুখখানি খুব ফ্যাকাসে সাদা হয়ে গেছে। বুঝতে পারিনি মা, চলে যাবে বলে মনের ভিতরে গভীর বেদনার ছাপ পড়েছিল। মা তোমার বিহনে আমার খুউব খুউব কষ্ট মা। একটা সুন্দর শাড়ী দেখলেই তোমার কথা মনে পড়ে। মনে হয় এই শাড়ীটা পরলে তোমাকে খুব মানাতো। তোমাকে শাড়ী কিনে দিলে তুমি কত আশীর্বাদ করতে। তুমি তো নেই মা --- কার জন্য শাড়ী কিনব? আমি শুধু সবসময় তোমার বয়সী মহিলাদের দিকে হা করে চেয়ে থাকি আর তোমার কথা ভাবি। জানো মা, তুমি চলে যাওয়ার ছয় মাস হয়নি, বাবুল কাকাও তোমার মত হঠাৎ করে চলে গেছে খুব অসময়ে। কেন এমন হলো মা? তুমি বেঁচে থাকলে খুব কষ্ট পেতে মা। সবশেষে বলি মা ---- আমাদের ভান্তে সবসময় তোমার কথা বলে, ভান্তের নাকি মনে হয় তুমি সবসময় আশেপাশেই আছ। তুমি নেই, একথাটা কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। আরো এটা কথা না বললে খুব অপরাধী হবো মা। সেটা হচ্ছে তোমার মৃত্যুর শবানুষ্টানে দেশবাসী সবাই যেরকম সহযোগীতা করেছে, সেটা কোনদিন ভুলতে পারব না। বিশেষ করে অনিল দাদুর পুরো পরিবার, প্রদীপ দাদা, দীলিপ দাদা, শিলীপ দাদা এবং আরো সবাই অকৃপণ সহযোগীতা করেছে। তাঁদের সবার কাছে আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। মা যদি তুমি পারো আবার ফিরে এসো, তোমার প্রিয় সন্তানদের কাছে। আমার এই আবদারটুকু রাখবে না মা? সারাজীবন তো শুধু জ্বালিয়েছি বিভিন্ন বায়না ধরেছি, এটা দিতে হবে, ওটা দিতে হবে। সব তো দিয়েছ মা, পূর্ণ করেছ সব আশা। এইবার শেষ আবদারটুকু রেখো মা। তোমাকে খুউব দেখতে ইচ্ছে করছে মা। যে মা-কে এক সপ্তাহ না দেখলে ছটফট করতাম প্রতিনিয়ত, সেই মাকে আজ সাত বছর না দেখে কিভাবে আছি? তুমিও মা কিভাবে আছো আমাদের না দেখে? খুউব জানতে ইচ্ছে করে -------কেমন আছো মা?

ইতি
তোমার আদরের মেয়ে 

Monday, April 14, 2014

অরুণ বহ্নি জ্বালাও চিত্ত মাঝে



অরুণ বহ্নি জ্বালাও চিত্ত মাঝে
ইলা মুৎসুদ্দী
শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান
সব দুর্বল সংশয় হোক অবসান
তব জাগ্রত নির্মল নূতন প্রাণ
ত্যাগব্রতে নিক দীক্ষা
বিঘœ হতে নিক শিক্ষা
নিষ্ঠুর সংকট দিক সম্মান
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা ------- নববর্ষের নব প্রভাত যা কিছু গ্লানি, জীর্ণ-শীর্ণ-বিদীর্ণ, পুরাতন জরাগ্রস্থ সব বৈশাখের রুদ্র দহনে পুড়ে অঙ্গার হোক, সকল না পাওয়ার বেদনাকে পিছনে ফেলে প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে শুচি ও শুদ্ধ করে তুলতেই আবহমান কাল থেকে বাঙালির জাতীয় জীবনে আনন্দময় নতুন বছরের প্রত্যাশায় নববর্ষ উদযাপিত হয়বিগত বছরের যাপিত জীবনের কষ্ট গ্লানি মুছে সংযোজন বিয়োজনের মধ্যে দিয়ে আমরা পালন করি পহেলা বৈশাখযার আমেজ ছড়িয়ে যায় সবখানেছোট-বড় সবার হৃদয় মাতিয়ে দিতে পহেলা বৈশাখের রয়েছে আলাদা মাধুর্যআমরা আশা করি ১৪২১ সালের নতুন ভোর কূয়াশার বুক চিরে টকটকে লাল সূর্যটা নিয়ে নতুন দিনের বারতা নিয়ে আসবেপহেলা বৈশাখ মানেই তারুণ্যের উচ্ছাস আর আনন্দের হিল্লোলআবাল-বৃদ্ধ বণিতা, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী সকলেই নতুন বছরের নব সূর্যের আলোয় আনন্দ উচ্ছাসে উদ্ভাসিত হয়ে ফুটবেতাইতো কবির ভাষায় বলতে হয় ---------
প্রভাতসূর্য, এসেছে রুদ্রসাজে
দুঃখের মাঝে তোমারি তূর্য বাজে
অরুণ বহ্নি জ্বালাও চিত্ত মাঝে,
মৃত্যুর হোক লয়
বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় উৎসব পহেলা বৈশাখবাঙালি জীবনের অসাম্প্রদায়িক, সার্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ বর্ষবরণের দিনটিপাহাড়ী বাঙালী সবাই এই দিনটিকে ভিন্ন ভিন্ন আমেজে পালন করেবাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান তিনটি জাতিগোষ্ঠী ত্রিপুরা, মারমা এবং চাকমারা দিনটিকে যথাক্রমে বৈশুখ, সাংগ্রাই ও বিজু উৎসব নামে দিনটিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপালন করে আসছেঅবশ্য বর্তমানে তিন জাতিস্বত্ত্বা যৌথভাবে বৈসাবি নাম দিয়ে পালন করা শুরু করছে দিনটিকেবৈসাবি উৎসবের অন্যতম আকর্ষন হচ্ছে পানি খেলা
এই দিনটির সাথে গ্রামীণ জনগোষ্টীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নিবিড় যোগ রয়েছেগ্রামে এই দিনে মানুষ ভোর ঘুম থেকে উঠে গবাদি পশুকে ¯œান করিয়ে তাদের গলায় মালা দেয়বৈশাখের নতুন নতুন ফুল দিয়ে মালা সাজিয়ে বাড়ির দরজায় টাঙিয়ে দেয়তারপর নতুন জামাকাপড় পড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যায়প্রায় প্রতিটি বাড়িয়ে এ সময় খৈ আর হাতে তৈরী  লাড়দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়কোন কোন গ্রামে এ সময় বৈশাখী মেলা বসেমেলাতে থাকে নানা রকম কুঠির শিল্পজাত সামগ্রীর বিপণন, থাকে নানা রকম পিঠা পুলির আয়োজনবন্ধুবান্ধবেরা একত্রিত হয়ে বিকালে মেলায় বেড়াতে যায়কোথাও কোথাও দিনটি উপলক্ষে নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা কিংবা বলী খেলার আয়োজনও করা হয়
শহরেও নানা বৈচিত্রে দিনটিকে উদযাপন করা হয়কর্মচঞ্চল যান্ত্রিক জীবন থেকে সবাইকে মুক্তি দেয় দিনটিরাজধানী ঢাকায় ছায়ানটএর শিল্পীরা সমবেত কন্ঠে গান গেয়ে নতুন বছরের সূর্যকে বরণ করে নেয়রমনার বটমূলে দিনব্যাপী চলে নানা আয়োজনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা ইনষ্টিটিউটের ছাত্ররা এদিন মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করেশোভাযাত্রাটি চারুকলা ইনষ্টিটিউট থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুণরায় চারুকলা ইনষ্টিটিউটে এসে শেষ হয়মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ বিভিন্নভাবে অংশ নেয়কারো হাতে থাকে ফেষ্টুন, কারো হাতে প্লে কার্ডকেউ কেউ নিজেকেই বর্ণিল সাজে সাজায় বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব মুখে অঙ্কন করে কিংবা রং বেরঙের মুখোশ পড়েএই শোভাযাত্রায় গ্রামীণ জীবন এবং আবহমান বাংলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়
বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মূল আয়োজন বসে ডি সি হিলেবিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিনটিকে বরণ করে নেয়এখানে অবশ্য বর্ষ বিদায় ও বর্ষ বরণ এই দুই দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান থাকেশিশু সংগঠন ফুলকীতিন দিন ধরে  উৎসবটিকে নানা আয়োজনে বরণ করেএছাড়া নগরীর মহিলা সমিতি স্কুলে বসে বর্ষবরণ মেলা বা বৈশাখী মেলা
আমরা এবার ভিন্নভাবে নতুন আঙ্গিকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবকারণ আমরা বাঙালী জাতি, বীরের জাতিআমরা আবারো তা প্রমাণ করেছি ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে আমরা দীর্ঘতম বিশ্ব মানব পতাকায় গিনেজ রেকর্ডে স্থান করে নিয়েছিসেই সাথে ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে আমরা আবারো সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিআমাদের আছে সফলতার দীর্ঘ কাহিনীমুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীনতার আনন্দ-উচ্ছাসে বাঙ্গালী জাতি নববর্ষকে ধারণ করবে এবারমানবতা বিরোধীদের মতো অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করা হচ্ছে সময়ের আবর্তনেবিচার কাজ চলছে খুবই দ্রুতগতিতেযারা দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছে, আর যারা শহীদ হয়েছে তাদের সকলেই আজ কিছুটা হলেও তৃপ্তকারণ যুদ্ধাপরাধীরা শাস্তি পাচ্ছেবাঙালী জাতি কোন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে নাবারে বারে তাপ্রমাণিত হয়েছেএজন্য পহেলা বৈশাখ আনন্দ-উদ্দীপনা আর বর্ণাঢ্য উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে দোলা দিয়ে যাবেবাঙালি সং®কৃতির বৃহৎ আয়োজন বৈশঅখী মেলা এবং নববর্ষ উদযাপননববর্ষে শিশু-কিশোর এবং তরুণ-তরুণীদের সাজ-সজ্জায় থাকে ভিন্নতাসেদিন মনে হয় সত্যিই আমরা মনে-প্রাণে বাঙ্গালীআমাদের সং®কৃতি আর ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক নববর্ষনতুনবছরের রঙীন সাজে আমরা নিজেদের রাঙ্গিয়ে নেই, নববর্ষের আগমনে নতুন প্রেরণায় জেগে উঠি, উজ্জীবিত হই
এক কথায়, এদিনটি বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে উৎসব আমেজ আর বসন্তের দিননানা রঙের পাঞ্জাবী আর আলপনা আঁকা শাড়ি, লাল-সবুজ আর সাদার সংমিশ্রণে ফ্যাশনের নতুনত্ব সবাইকে মাতিয়ে রাখে বৈশাখের গাটছড়ায়দূর্যোগ কালীন সময় কিংবা দেশবিরোধীরা যখন মাথাছাড়া দিয়ে উঠে  তখন আমার উৎসব প্রিয় বাঙ্গালীরা এই দিনের মতো করে  সম্মিলিত ভাবে জেগে উঠলে দেশ থেকে সকল অপশক্তির নিরোধ হবে, উন্নয়নের জোয়ারে উন্নতির শিখরে পোঁছাবে বাংলাদেশ
অনেক ভালো-মন্দের, সুখ-দুঃখের সম্মিলনে আমাদের জীবনলিপিবিগত বছরে আমাদের কারো জীবনে ঘটে গেছে অনেক দুঃখময় ঘটনা, আবার কারো জীবন আনন্দ-ভালোবাসায় হয়েছে পরিপূর্ণঅপ্রাপ্তি, অপূর্ণতা থাকবেইসবকিছু ভুলে গিয়ে সকল দুঃখ-হতাশা, গ্লানি, ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে সততা, একাগ্রতা, সৃষ্ঠিশীলতা প্রয়োগ করে আমরা এগিয়ে যাব দৃঢ় প্রত্যয়ে১৪২১ সাল আমাদের সবার জন্য নিয়ে আসুক নব নব প্রাপ্তি আর নব নব আনন্দ
স্বাগতম বাংলা নববর্ষ ১৪২১ বঙ্গাব্দসকল অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করে নতুনের শুভ সূচনা হোকসকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছাপরিশেষে কবিগুরুর চরণ দিয়েই শেষ করছি ঃ
চলো যাই কাজে মানবসমাজে, চলো বাহিরিয়া জগতের মাঝে,
থেকো না অলস শয়নে, থেকো না মগন স্বপনে।।
যায় লাজ ত্রাস, আলস বিলাস কুহক মোহ যায়
ঐ দূর হয় শোক সংশয় দুঃখ স্বপনপ্রায়
ফেলো জীর্ণ চির, পরো নব সাজ, আরম্ভ করো জীবনের কাজ
সরল সবল আনন্দমনে, অমল অটল জীবনে।।

লেখকঃ প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক

Thursday, February 13, 2014

খোলা কলাম /তমসা অরণ্য

সমরেশ বসুর প্রজাপতি ও কিছু কথা
--- তমসা অরণ্য
প্রাণের মেলা বইমেলা-২০১০ এ সময় দিতে না পারার ও মন মত বই কিনতে না পারার দুঃখ ঘোচাতে বইমেলা-২০১১ থেকে বেশ কিছু বই কিনেছিলাম। আজ আবার বইমেলা-২০১৪ শুরু হওয়ায় ২০১২ বা ২০১৩-এর বইমেলা নয়, ২০১১-এর কথা মনে পড়ল। ফেরার পথে পা টেনে টেনে চলতে হচ্ছিল, তবু আনন্দে বুক ভরে যাচ্ছিল আমার। ২০১১-এর এপ্রিলে এসে সেই গত দুমাস আগে কেনা বইগুলো পড়ার ফুসরত মিলছিল না। হঠাৎই হাতে যা সময় পাচ্ছিলাম, তাই নিয়ে ঝুলে পরেছিলাম বইগুলো পড়ব বলে। শুরু করেছিলাম তসলিমা নাসরিনের আত্মজীবনী নেই, কিছু নেই দিয়ে, কিন্তু তার পাশাপাশি হাতে তুলে নিয়েছিলাম আরও একটি বই; নাম তার প্রজাপতি, লেখক সমরেশ বসু। প্রচ্ছদে আঁকা একটি পেরেকবিদ্ধ প্রজাপতি! বুঝলাম, রোমান্টিক বা সুখপাঠ্য কোন উপন্যাস নয় এটা। বলতে দ্বিধা নেই, কলকাতার দুচার জন লেখকের লেখার প্রতি আমার এক ধরণের ভাল লাগা কাজ করতশীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তাঁদের অগ্রভাগে। তবে সমরেশ বসুর আর কোন উপন্যাসটি বিগত সময়ে পড়েছি, ঠিক মনে করতে পারছিলাম না; এখনও পারছি না। তবে এটা পড়ে কি এক বোধ যেন কাজ করেছে, কি যে বোধ বুঝতে পারিনি সেদিনও; আজো পারছি না। অনেকটা এ উপন্যাসের নায়ক চরিত্র সুখেন্দু যেমন নায়িকা শিখার মধ্যে কি যেন কি আছে টাইপ কিছু একটা খুঁজে ফেরে তার মত! সুখেন; সরকারি আমলা পিতার বখে যাওয়া কনিষ্ঠতম সন্তান। বড় দুই দাদার মত কলেজ জীবনেই রাজনীতির স্বার্থবাদী পাঠ শিখে কর্মজীবনে চাকরি-ব্যবসার পাশাপাশি বাঘা বাঘা দুই পার্টির হর্তা-কর্তা হয়ে এলাকা ভাগাভাগি করে গরিবের নাকের ডগায় মূলো ঝুলিয়ে তথাকথিত জনদরদী নেতা হয়ে উঠতে পারেনি। কলেজ টু আউট অফ কলেজ জীবনে চারপাশের মানুষের কারণে হয়ে উঠেছে সুখেন গুন্ডা! দেখা হলে সকলে ভাল-মন্দ জিজ্ঞেস করে, পাড়ার বৌদিদের কাছে-পিঠে তার ডাক পড়ে, সরকারি বাবু থেকে পেটমোটা কারবারি; এমনকি দারোগা বাবু পর্যন্ত তাঁকে সমীহ করে চলে। এ কোন ভালবাসা নয়; ভয়। কারণ সবার ঘরের খবর, ঘট আর ঘটির খবর সবটাই যে তাঁর জানা! কাহিনীর শুরু একটা প্রজাপতিকে ধরা নিয়ে সুখেনের একরোখা চেষ্টা আর শিখার তা রুখে দেয়ার প্রাণপন চেষ্টা থেকে। মাঝে সুখেনের পরিবার, শিখার পরিবার, কলেজ জীবনের দাঙ্গাবাজী-হাঙ্গার স্ট্রাইকের স্মৃতিকথা, তাঁদের পাড়ার কিছু ভদ্রবেশী মানুষের সুকীর্তির(!) কথা, সুখেনের নারীজনিত নানা অভিজ্ঞতা, দাদাদের নোংরামী-দলাদলি ইত্যাদি ইত্যাদির পাশাপাশি শিখার প্রতি অজানা-অনাবিষ্কৃত আকর্ষণ বোধ (সুখেনের ভাষায় যা ওর মধ্যে কি যেন একটা আছে) গুন্ডামী জীবনের অন্যতম চ্যালা শিবের বোন মঞ্জরীর সাথে সুখেনের দেহজ সম্পর্ক আছে। এমনকি এ ধরনের মুহূর্তকালের বহু সম্পর্ক গড়েছে-ভেঙ্গেছে তাঁর জীবনে ভদ্দরলোক বলে খ্যাত বহু বাবুদের স্ত্রী, মেয়েদের সঙ্গে কিন্তু কোনোটিই যেন শিখার প্রতি যে নেশা তার মত নয়। শিখার নাড়ী-নক্ষত্র জানা থাকলেও, প্রতিনিয়ত কি যেন একটা অজানা কিছু খুঁজে পেতে চায় সুখেন। এই শিখার জন্যেই একসময় সাধারণ ছেলেটি হবার আকাঙ্খা পেয়ে বসে তাঁকে। স্কুল জীবনের নিরীহ শিক্ষক নিরাপদবাবুর মত নির্বিঘ্ন জীবনে ফিরে যেতে চায়। চোপড়া সাহেবের কাছে চাকরির কথা বলায় নিজেই অবাক হয়! কিন্তু সমাজ, সংসার, মানুষ তাঁকে তা হতে দিল কই? দাদাদের দলাদলি আর শত্রুপক্ষের নির্মম বলী হয় সুখেন। হরতাল চলাকালীন সময়ে পক্ষ আর বিপক্ষদলের যুগপৎ ছুটে আসা মিছিলের মুখে পরে এক দোকানে আশ্রয় নেয়া অবস্থায় দাঙ্গার মাঝে উড়ে আসা এক সর্বনেশে বোমার আঘাতে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সুখেনের সাধারণ কেউ হবার স্বপ্ন। হারাতে হয় চোখের আলো, পা আর হাত। এ উপন্যাসের কোন চরিত্রই অলৌকিক বা অতিলৌকিক নয়; সবাই বাস্তব জীবনের প্রতিনিধিত্ব করেছে। সুখেন যেন রাস্তার সেই চিরচেনা গুন্ডা ছেলেটি; মুখে যার অশ্রাব্য খিস্তি-খেউর, চোখে রঙ্গিন মদের নেশা আর মনে আপাত অশ্লীল সব ভাবনার বাসা! তবু সেই গুন্ডা হয়েও যেন এই গুন্ডা নয় সুখেন, এই নয়টুকুর হয় না হওয়াটাই আমাদেরকে ভাবায়। শেষ পরিণতি ভেতরটা দুদ্দাড় করে কাঁপিয়ে দেয়। ঘৃণা কিংবা করুণা হয় না সুখেনদের প্রতি; হয় সমাজ আর তথাকথিত সমাজপতিদের প্রতি। একসময় বইটা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ভারতে। অশ্লীলতার দায়ে আদালতে চলেছিল মামলা। অভিযোগকারীর দাবি ছিল, তরুন সমাজকে বিপন্ন আর বিপথে চালিত করতে পারে এ উপন্যাস। উপন্যাসটি আদ্যোপান্ত পড়ে, হাস্যকর মনে হয়েছে সেই অভিযোগ! সাহিত্যে অশ্লীলতা আর জীবনে বাস্তবতা এ দুটি বিষয় অনুধাবনে পাঠককে অনেক দায়িত্বশীল হতে হয়। সত্য অনেক সময়ই নির্মম হয়; তা বলে.. মানব না? ছি ছি আর থু থুক্কারে অস্বীকার করে যাব! যে বয়সের পাঠক এই বইটি পড়ার আগ্রহবোধ করবে, তাঁকে কিছুটা মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে তবেই পড়তে হবে। কারণ, গতানুগতিক রক্ষণশীল সমাজমানস নয়; বরং এর সঠিক তাৎপর্য অনুধাবনে চাই তথাকথিত সমাজ নিরপেক্ষ প্রগতিশীল মন। আশা করি, যাপিত জীবনে অতি প্রচলিত দুএকটা কিংবা হোক না তা চল্লিশ-পঞ্চাশেক আপত্তিকর কথা; তা জীবনবাদী সাহিত্য পাঠে অভস্ত্য পাঠকদের শরীরে অথবা মনে এই বয়সে এসে সস্তা সুড়সুড়ি উদ্দীপক কোন অনুভূতির উদ্রেক করবে না। যাহোক, আমার বলার অনেক কিছুই আছে; ছিল। কিন্তু অন্ধের হাতি দর্শনের অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই আমার বন্ধুরা ভুলে যাননি! আর তাই অনেক কথা অনুক্ত রেখেই বলব -- ঝালের মজা যদি বুঝতেই হয়, তবে অন্যের জিভে না চেখে.. নিজের জিভেই চাখুন। উহা কত প্রকার ও কি কি, হাতেনাতে প্রমাণ পেয়ে যাবেন। আমি যতটুকু বললাম, তার অনেকটা জুড়েই যেন.. সুখেন আর শিখার প্রেম! অথচ, উপন্যাসটি মোটেও গতানুগতিক কোন প্রেমের কাহিনীনির্ভর উপন্যাস নয়; সুন্দর কোন কিছুর উপর সহজ একটা দাগের মত এর মূল থিমটাও কেমন যেন স্বাভাবিক। আরও স্বাভাবিক নায়ক সুখেনের মুখের অশ্লীলতা দোষেদুষ্ট স্ল্যাং ভাষাও। শুলাদা নামক অপ্রধান চরিত্রটাও কেমন যেন একটা দ্যুতিময় আশ্চর্য আভার সৃষ্টি করে! শিখা ঠিক রক্ত মাংসের একজন হয়েও যেন.. আর পাঁচটা মেয়ের মত নয়; কি যেন কি রহস্য আছে ওতে। প্রজাপতির প্রসঙ্গ বারবার এসেছে; বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যজনিত কারণেই। শুঁয়োপোকা থেকে প্রজাপতিতে রুপান্তরিত হবার মত একটা আকাঙ্খা, একটা চেষ্টা আর সুখেনের হাতে আহত সেই প্রজাপতির নিস্ফল আস্ফালনের সাথে বোমায় আহত সুখেনের বোধের সাথে সাদৃশ্য যেন তা-ই মনে করিয়ে দেয়। এলোমেলো ভঙ্গিতে ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়ার একটাই কারণ, পারেন তো.. বইটা পড়া থেকে বিরত থাকবেন না। ভাল লাগার গ্যারান্টি দিতে না পারলেও.. মন্দ না লাগার শত ভাগ গ্যারান্টি দেয়া বোধহয় কোকিল পুড়িয়ে গলা সুকন্ঠি করার মত অবিশ্বাস্য কিংবা দুঃসাহসী কিছু নয়!