ট্রেন
নাজমুল হাসান
সপরিবারে সানন্দে চেপেছি ট্রেনে
ট্রেন চলছে দ্রুতবেগে।
স্মৃতির মাঠ, স্মৃতির ঘাট
স্মৃতির নদী, স্মৃতির পাহাড়
সব স্মৃতি পিছে ঠেলে,
ট্রেন চলছে দ্রুতবেগে।
শৈশব স্টেশন ছেড়ে
কৈশোর স্টেশন ছেড়ে
যৌবন স্টেশনে একটু থামে;
আমার ছেলে নেমে পড়ে,
অন্য ট্রেনে উঠবে বলে।
ফের ট্রেন চলে
বিয়ে স্টেশনে একটু থামে;
আমার মেয়ে নেমে পড়ে,
অন্য ট্রেনে উঠবে বলে।
আমরা দুজন বিষণ্ণ মনে
চলেছি ফাঁকা ট্রেনে
হঠাৎ দেখি-
যৌবন-বার্ধ্যকের রুটে
এসে গেছি অনেক দূরে
ট্রেন থেমেছে বার্ধক্য স্টেশনে;
আমরা নামি বিশ্রাম নিতে
অন্ধকার জমেছে বিশ্রামাগারে।
আমাদের আলোরা আসছে পেছনের ট্রেনে,
ওরাও একদিন আসবে এই স্টেশনে,
ওদের আলোরা আসবে ওদের পেছনে।
ওরা পাবে না আমাদের খুঁজে
অফিস পাড়া
মনে মনে বলি
এলাম কোন বনে।
অফিস পাড়ায় দেখি
বদলে গেছে পদবী।
মন্ত্রী হলেন হায়েনা
ভয় পেলে চলে না।
কাজ পেতে হলে,
কাছে যেতে হবে।
সচিব হলেন বাঘ,
কু-কাজের কাজী
ভয়ানক পাজী
কাকে খাবে আজ।
বড় বাবু বুড়ো শিয়াল
পান খেয়ে মুখ লাল
সবাইকে সেখান তিনি
বনে ঢোকার নিয়মনীতি।
এমনি আরো ভয়ংকর পদবী
সাপ, সিংহ, আরো কত কি
আছে যত বনের হিংস্র প্রানী।
নিয়মনীতি নাহি মানি
ভয়ে ভয়ে হাঁটি
কোত্থেকে বেরিয়ে পড়ে
কোন বন্য প্রানী।
হেঁটে হেঁটে খুঁজি উত্তর
বনের সবাই কি বিষধর?
ও, এস, ডি র পদবী ঢোঁড়াসাপ
করে নাকো ফোঁসফাঁস
বনের নিরীহ প্রানী
ওর কাছে কেউ যায় না জানি।
বনের প্রানী যাবে কবে বনে
No comments:
Post a Comment