১ম বর্ষ,৫ম সংখ্যা,১৫ ই জুন ,২০১৪। ১লা আষাঢ়,১৪২১

১ম বর্ষ,৫ম সংখ্যা,১৫ ই জুন ,২০১৪। ১লা আষাঢ়,১৪২১

Thursday, February 13, 2014

আজহার রাজা এর ২টি কবিতা

প্রোথিত বিশ্বাস
- আজহার রাজা

পাহাড়ের চূড়া সাগর মোহনা নীলাভ আকাশ
হৃদয়ের গভীরতম স্থান মস্তিস্কের ভিত্তি ভূমি
আর যে সকল স্থানে তুমি ছিলে
সমস্ত- জায়গা তোমার বন্দিত্ব হতে মুক্ত
নিশ্বাস প্রবাহিত বায়ু নিবৃত সঙ্গ
মিষ্টি কন্ঠস্বর অকৃত্রিম হাসি
সবই আজ স্মৃতির ধ্বংস স্তুপ।

স্থির নেত্র প্রকৃতির স্বৈরতান্ত্রিক নিয়মে
অন্যের স্থান করে দেওয়ায় ব্যস্ত
কাজের ব্যস্ততা ঘরে ফেরার তারায়
কোলাহলে মুখরিত নির্জন শ্মশান ।

পুরোহিত, মন্ত্র এক চিলতে সিঁদুর
আর সামান্য সামাজিক প্রথা
সমস্ত- স্থান অধিকারে বিশ্বাস
আত্মার সম্পর্ক
অভীষ্ট সুখের চূড়া
পৃথিবীর নিকট আত্মীয় সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়া
মানবিকতার মূল্য প্রোথিত বিশ্বাসের পিষ্টে ।

অজস্র প্রতিশ্রুতি সহস্র স্বপ্ন
চোখে চোখ ভাবের প্রদান
সঙ্গম শেষে পরিতৃপ্তির হাসি
পরম নির্ভরশীলতা দ্বিধাহীন সহানুভূতি
সামান্য সামাজিক প্রথায় পরাজিত ॥
 
 
 
 
 বাংলা মা
- আজাহার রাজা

বাংলা মা
তুমি শুনতে পাও আর্তনাদ
আমার চিৎকার
কি করে শুনবে তুমি
যখন গায়ের সমস্ত- রক্ত চুষে খায়
তারই বিমাতার ভাই
পিতা মাতার সামনেই সম্ভ্রম হারাতে হয় মেয়ের
যখন তোমার পঙ্গু সন্তানেরা
অবহেলায় অযত্নে অনাহারে ধুকে ধুকে মরছে।

চিন্তা করো না মা
মৃত্যুর পর তোমার বুকে আলিঙ্গনের সময়
তারা পাচ্ছে জাতীয় সম্মান।

তুমি কেন স্তব্ধ মা
চেয়ে চেয়ে দেখ
দস্যুদের অরাজকতা
তবুও তোমার বুকে রোজ ভোর হয়
সূর্য উঠে পাখিরা কিচির মিচির করে
একি নিষ্ঠুর তোমার আচরণ।

বাংলা মা
তোমার স্তন্য খেয়ে যারা বাঁচে
যৌবন প্রাপ্ত সেই সন্তান আজ
তোমার স্তনের অন্য অর্থ খুঁজে
নরপশুরা আজ তোমারই সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত
যেখানে তোমায় বীর শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা ঘুমায়
তাদের সেখানে ঠাঁই দিও না
তাড়িয়ে দাও অভিশাপ দাও
বর্বর ওই মাতৃ দালালদের।

বাংলা মা
তুমি শুনতে পাও আর্তনাদ
আমার চিৎকার ।

ক্ষুদ্র কণ্ঠের আওয়াজ তুমি শুনবে না
কিভাবে শুনবে, তবুও শোন
তোমার বুকে দাঁড়িয়ে
অন্যায়ের প্রতিবাদ করাও অন্যায়
সবাই সমাজ কর্মী
দুঃস্থদের সেবা করে
তোমার গায়ে পেরেক গেথে
ব্যানার লাগিয়ে রাখে
আমরা খাঁটি
সত্যের সন্ধানে কেউ ছুটে না।

বাংলা মা
ওরা বেশ্যা দলের
একই বিছানায় নানান জনের সাথে
সঙ্গ দেয়
এক মুখে হাজার রকমের কথা
খদ্দের দেখে পাল্টিয়ে
নেয় নিজেদের পোষাক।

বাংলা মা
ওরা তোমার কুসন্তান
আমার সন্দেহ হয় তোমার রক্তই কি বইছে
ওদের শরীরে
নাকি
ওরা নর্দমার কীট থেকে তৈরী
তুমি বল মা
ওরা তোমার সন্তান নয়
ওদের শরীরে বইছে পশুর রক্ত
জানোয়ারের সমতুল্য হিংস্র
নিজ গোত্রের রক্ত চুষে খায়।

বাংলা মা
তোমার ভ্রষ্ট সন্তানেরা
রক্ত রঙ্গিন খুনের নেশায় উন্মত্ত
তারা লাল পতাকাকে অপমান করে
জানোয়ার চাটে জানোয়ারের রক্ত
নিজের তৃপ্তি মেটাতে।

বাংলা মা
তুমি আমায় ক্ষমা কর
পারিনি আমি তোমার কথা রাখতে
তোমার বুকে যারা কুড়াল মারে
রক্তাক্ত করে বুকের পাঁজর গুনে
পারিনি তাদের সর্বনাশ লিখতে ॥

No comments:

Post a Comment