১ম বর্ষ,৫ম সংখ্যা,১৫ ই জুন ,২০১৪। ১লা আষাঢ়,১৪২১

১ম বর্ষ,৫ম সংখ্যা,১৫ ই জুন ,২০১৪। ১লা আষাঢ়,১৪২১

Thursday, February 13, 2014

ছোট গল্প/ অসৌন্দর্যের সৌন্দর্য

তিথির চিরকুট
/ অসৌন্দর্যের সৌন্দর্য
ছোট্ট একটা শ্রেণিকক্ষ। ছাত্র-
ছাত্রিরা চুপচাপ বসে আছে।
ক্লাসে শিক্ষক প্রবেশ করলেন। সবাই
একটু অবাক হয় স্যারের সাথে নতুন
একটি মেয়েকে দেখে।
-কেমন আছ তোমরা।
-ভাল আছি স্যার, আপনি?
-ভাল। এ তোমাদের নতুন বন্ধু। এর নাম
তিথি। অনেক মেধাবী।
আশা করি তোমরা পরস্পরকে সাহায্য
করবে।
যথারীতি ক্লাস হয়। অফ পিরিওড এ
তিথি সবার সাথে কথা বলে। বেশ
মিশুক মেয়েটি। ১ম দিনেই অনেকের
বন্ধু হয়ে যায়।
একটা ছেলেকে দেখে অবাক হয় তিথি।
ক্লাসে চুপচাপ বসে থাকে।
কারো সাথে তেমন কথা বলে না। কিন্তু
পড়াশুনায় খুব ভাল। তার নাম কামাল।
অন্যদের কাছে জানতে পারে সে ঐ
রকমই। একদিন তিথি নিজে কামালের
কাছে আসে।
-কেমন আছ বন্ধু?
-ভাল।
আর কিছু না বলে চুপ থাকে কামাল।
-আজকের হোম ওর্য়াক করেছ?
-হ্যাঁ
-আমি করেছি। স্যার আসছে। পরে গল্প
হবে।
অন্যরা অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল তাদের
দিকে।
কামাল পড়ছে। বইয়ের পাতা উল্টাতেই
একটা কাগজ চোখে পড়ে।
তাতে লেখা ছিল
-তুমি অনেক ভাল। বন্ধু
এমনটা করতে নেই।
কামালের বুঝতে দেরি হয়
না এটা তিথি দিয়েছে। খুব
ক্ষেপে যায় কামাল।
একটা কাগজে লিখে লিখে ফেলে
-নিজের চরকায় তেল দাও।
কি করা উচিত আর কি করা উচিত নয়
তা কি তোমার কাছ থেকে শিখতে হবে?
পরদিন স্কুলে গিয়েই
ক্লাসে তিথি কে খুঁজতে থাকে। সেদিন
তিথি আসে নি। তারপরের দিন ও
আসে নি। ক্লাসে পড়ানোর সময় শিক্ষক
বললেন,"এই
তোমরা ঠান্ডা লাগাবে না। যে কোন
সময় অসুখ করতে পারে। তিথি খুব
অসুস্থ।"
সবার মন খারাপ হয়ে যায়।
তারা তিথিকে দেখতে যাওয়ার
সিদ্ধান্ত নেয়। ঐ দিনই বিকেলে সবাই
তিথিকে দেখতে যায়। সব
বন্ধুকে আসতে দেখে তিথির বাবা-
মা খুব খুশি হয়। তিথির খুব ভাল লাগে।
সবাই অনেক ক্ষণ গল্প করে।
কামাল পড়ছিল। পড়া শেষে বই
গুছাচ্ছিল। টেবিলের কোণায়
রেখে দেয়া চিরকুটটি আবার
চোখে পড়ে। বইয়ের পাতার
ফাঁকে পাওয়া তিথির সেই
চিরকুটটি কামাল সেখানে রেখেছিল।
সেই লেখাটি চোখে পড়ে
-তুমি অনেক ভাল। বন্ধু
অমনটা করতে নেই।
আজ খুব লজ্জা পায় কামাল। তিথি অসুস্থ।
সবাই দেখতে গিয়েছিল। সে যায় নি।
নিজের মাঝে অনুশোচনা জাগে নিজের
ভুল আচরণের জন্য। কামাল
প্রতিজ্ঞা করে আর বন্ধুদের সাথে অমন
করবে না।
পরের দিন তিথি স্কুলে আসে।
যথারীতি ক্লাস হয়। টিফিন পিরিওড
এর পর সবাই ক্লাসে এসে খুব অবাক হয়।
সবার ব্যাগের উপরে চিরকুট ছিল।
তাতে লেখা ছিল-
-Sorry Bondhu.
কেউ বুঝতে পারে না কে দিয়েছে।
তিথি বুঝতে পারে এটা কামাল
দিয়েছে। তিথির এতে অনেক ভাল
লাগল। বাসায় এসে কামাল ব্যাগ
থেকে বই টেবিলে রাখতে গিয়ে আর
একটি চিরকুট পায় ।
তাতে লেখা ছিল -
Thanks.
এরপর কামাল সব বন্ধুদের
সাথে ভালআচরণ করে। অবসরে সবার
সাথে গল্প করে। ধীরে ধীরে কামাল ও
তিথি বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে যায়।
একটি বছর কেটে যায়। কামাল, তিথি ও
তার বন্ধুরা নবম শ্রেণিতে ওঠে।
কামাল ও তিথির বন্ধুত্ব অনেক গাঢ়
হয়ে যায়। একদিন কেউ
কাউকে না দেখলে তাদের কেমন কেমন
যেন লাগে। অবশ্য কেউ তা প্রকাশ
করে না।
মার্চের শেষের দিক। তিথির
বাবা সরকারি অফিসার। ট্রান্সফার
নোটিশ এসেছে। চুয়াডাঙ্গায়
যেতে হবে। এর আগে বগুড়ায় ছিলেন।
সেখান থেকে এলেন রংপুরে। রংপুর
থেকে এবার যাবেন চুয়াডাঙ্গা।
তিথির
বাবা তিথিকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি
নিতে বলেন। তিথির খুব খারাপ
লাগছিল। এর আগে এমনটা হয় নি।
কামালকে আর দেখতে পাবে না।
ভাবতেই খারাপ লাগছিল।
নিষেধ সত্ত্বেও স্কুলে যায় সে।
কামালের সাথে কথা বলবে। সেদিন
কামাল আসে নি।
কামালকে না পেয়ে তিথি একটি চিঠি ল
-এটা কামাল কে দিস।
-ঠিক আছে। তোকে খুব মিস করব রে।
পরস্পরের গলা ধরে কাঁদতে থাকে।
বেশ কয়েকদিন পর কামাল স্কুলে আসে।
স্কুলে এসেই তিথিকে খুঁজছে।
হঠাত্ মোহনা এসে বলে, "অসামাজিক
কোথাকার! কই ছিলি এতদিন?
এইনে তোর চিঠি।
চিঠিটা নীরবে পড়ছিল কামাল।
-তোমাকে অনেক কিছু বলার ছিল।
পারলাম না বলতে। আগামী পরশু বাস
স্ট্যান্ডে আসিও। যাবার বেলায়
তোমাকে দেখতাম। এ দেখাই শেষ
দেখা কি না জানি না। তবে হয়ত আর
রংপুরে আসা হবে না।
চুয়াডাঙ্গা যাচ্ছি। তুমি এসো যাবার
বেলায় তোমাকে দেখব।
কামালের বুকটা হু হু করে উঠল। অশ্রু আজ
আর ধৈর্যের বাধা মানল না। অস্পষ্ট
কিছু কথা উচ্চারিত হয় কামালের মুখ
থেকে।
-বন্ধু আমাকে কি বলতে চেয়েছিলে?
আমিও যে তোমাকে অনেক কিছু
বলতে চেয়েছিলাম।
সেই দুটি চিরকুট আজ ও আছে।
"তুমি অনেক ভাল। বন্ধু
অমনটা করতে নেই।"
"Thanks"
কামালের একাকিত্বের সঙ্গী এই
চিরকুট। দুটি চোখ
আজ ও পথের পানে চেয়ে থাকে। যতদূর
দৃষ্টি যায়।
________________________

No comments:

Post a Comment