অবরুদ্ধ স্মৃতিগুলো
একটি পুরোনো দরজা-
ধূলি মেখে আড়াল করে রেখেছে নিজ বর্ণ
হারিয়ে গিয়েছে তার শৌর্য, অবাক চাকচিক্য!
তবুও অবিচল দাঁড়িয়ে আছে প্রচন্ড প্রতাপে।
এর পিছনে চাপা পড়ে আছে অজস্র লুকানো স্মৃতি।
প্রেমিকার জন্য লেখা আনাড়ি কোনো চিঠি
সাথে দু'-এক ছত্র পাগলামি কবিতা
অথবা লুকিয়ে খাওয়া প্রথম চুমু
অবাক নয়নে তার চেয়ে থাকা নিশ্চুপে!
এ স্মৃতি এখানে লুকিয়ে রাখা বদ্ধ প্রকোষ্ঠে
যার জন্য অমানুষিক কষ্ট, এবং আরো কষ্ট-
তাকে বন্দী করে রাখা আছে দরজার ওপাশে!
ওখানে আরো বন্দি আছে বোনের দেয়া রুমাল
এক টুকরো কাপড়ে ছিল স্নেহের আঁকাবাঁকা নকশা।
এই রুমালেই লেগেছিল তার রক্তের দাগ,
এক টুকরো কাপড় পারনি থামাতে রক্তের নহর!
রক্তাক্ত রুমাল আজ অন্ধকার কারাগারে রুদ্ধ-
সাথে তার মায়াকরা মুখখানি, তার মৃত্যু যন্ত্রণা!
সেখানে আছে আমার মা, আমার সর্বস্ব!
তার জন্য আমার আলোর দেখা পাওয়া,
আমার জন্য তার সবছেড়ে চলে যাওয়া!
তার জঠরে থাকা প্রতি হৃদস্পন্দনের স্মৃতি,
পুরনো হয়ে যাওয়া তার সাদাকালো ছবি।
আমি সবকিছু তালাবদ্ধ করে রেখেছি শক্তহাতে!
এই দরজাও মাঝে মাঝে আমি খুলি-
হয়তো আনমনে, মনের খেয়ালে
আমার সামনে আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে ওঠে স্মৃতিরা
আমাকে গ্রাস করে নিতে চায় যেন এক মুহুর্তে!
আমি ভীরু, সাহস নেই দাঁড়িয়ে চেয়ে থাকার-
মুছে ফেলার সব অসহ্য দাগী এই স্মৃতিগুলো!
আমি সজোড়ে বদ্ধ করি যন্ত্রণা দুয়ার,
আবার বন্দী হয়ে পড়ে আমার দুঃখী স্মৃতিরা!
ধূলি মেখে আড়াল করে রেখেছে নিজ বর্ণ
হারিয়ে গিয়েছে তার শৌর্য, অবাক চাকচিক্য!
তবুও অবিচল দাঁড়িয়ে আছে প্রচন্ড প্রতাপে।
এর পিছনে চাপা পড়ে আছে অজস্র লুকানো স্মৃতি।
প্রেমিকার জন্য লেখা আনাড়ি কোনো চিঠি
সাথে দু'-এক ছত্র পাগলামি কবিতা
অথবা লুকিয়ে খাওয়া প্রথম চুমু
অবাক নয়নে তার চেয়ে থাকা নিশ্চুপে!
এ স্মৃতি এখানে লুকিয়ে রাখা বদ্ধ প্রকোষ্ঠে
যার জন্য অমানুষিক কষ্ট, এবং আরো কষ্ট-
তাকে বন্দী করে রাখা আছে দরজার ওপাশে!
ওখানে আরো বন্দি আছে বোনের দেয়া রুমাল
এক টুকরো কাপড়ে ছিল স্নেহের আঁকাবাঁকা নকশা।
এই রুমালেই লেগেছিল তার রক্তের দাগ,
এক টুকরো কাপড় পারনি থামাতে রক্তের নহর!
রক্তাক্ত রুমাল আজ অন্ধকার কারাগারে রুদ্ধ-
সাথে তার মায়াকরা মুখখানি, তার মৃত্যু যন্ত্রণা!
সেখানে আছে আমার মা, আমার সর্বস্ব!
তার জন্য আমার আলোর দেখা পাওয়া,
আমার জন্য তার সবছেড়ে চলে যাওয়া!
তার জঠরে থাকা প্রতি হৃদস্পন্দনের স্মৃতি,
পুরনো হয়ে যাওয়া তার সাদাকালো ছবি।
আমি সবকিছু তালাবদ্ধ করে রেখেছি শক্তহাতে!
এই দরজাও মাঝে মাঝে আমি খুলি-
হয়তো আনমনে, মনের খেয়ালে
আমার সামনে আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে ওঠে স্মৃতিরা
আমাকে গ্রাস করে নিতে চায় যেন এক মুহুর্তে!
আমি ভীরু, সাহস নেই দাঁড়িয়ে চেয়ে থাকার-
মুছে ফেলার সব অসহ্য দাগী এই স্মৃতিগুলো!
আমি সজোড়ে বদ্ধ করি যন্ত্রণা দুয়ার,
আবার বন্দী হয়ে পড়ে আমার দুঃখী স্মৃতিরা!
একান্ত স্বর্গে
আমি আমাকে আমার
স্বপ্নের সাথে
আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রাখছি ক্রমাগত।
আমি চাই না দু' চোখ খুলে দেখতে,
এই নষ্ট পৃথিবীর ভ্রষ্ট চাল-চরিত!
আমার ভ্রম জগতকে করেছি বৃহত্তর
এখানেই আমার চেতনা কারারুদ্ধ
এখানে ভালোবাসারা ভাসে উচ্ছ্বাসে-
কষ্টরাও পুড়ে পুড়ে হয় মহাশুদ্ধ!
বল,কোন পৃথিবীতে যাবো, কোন বেশে?
নারী হয়ে গেলে হতে হবে ধর্ষিত-
নপুংশকের বীর্যে পূর্ণ হবে জরায়ু!
যতটা ব্যর্থ শিশ্নের জান্তব উল্লাসে-
তার চেয়ে ঢের বেশী কামুক দু' চোখে!
পুরুষ বেশে পা রাখবো পৃথিবীর রাজপথে,
কতদূর যাবো বল, কত ক্রোশ দূরে?
শৃঙ্খলিত হতে হবে তোমার প্রভুর ক্রোধে
তার দাসত্বে, তার ক্লেদাক্ত পা লেহনে
প্রতিটি মুহূর্তে বেঁচে থাকার অসহায় চেষ্টা!
বল, কোন পৃথিবীতে যাবো, কোন দেশে?
আমি বরং এই স্বপ্নেই থেকে যাই
তোমরা বারেবারে করাঘাত করবে-
এই মায়াজালের অদৃশ্য দেয়ালে
আমি ছুটতে থাকবো অসীমে, অবিরত-
এক আসমান থেকে অন্য আসমানে!
তোমরাও পিছু নেবে পাশবিক চিৎকারে
আমি ছুটতেই থাকবো, আমাকে ছুটতেই হবে!
আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রাখছি ক্রমাগত।
আমি চাই না দু' চোখ খুলে দেখতে,
এই নষ্ট পৃথিবীর ভ্রষ্ট চাল-চরিত!
আমার ভ্রম জগতকে করেছি বৃহত্তর
এখানেই আমার চেতনা কারারুদ্ধ
এখানে ভালোবাসারা ভাসে উচ্ছ্বাসে-
কষ্টরাও পুড়ে পুড়ে হয় মহাশুদ্ধ!
বল,কোন পৃথিবীতে যাবো, কোন বেশে?
নারী হয়ে গেলে হতে হবে ধর্ষিত-
নপুংশকের বীর্যে পূর্ণ হবে জরায়ু!
যতটা ব্যর্থ শিশ্নের জান্তব উল্লাসে-
তার চেয়ে ঢের বেশী কামুক দু' চোখে!
পুরুষ বেশে পা রাখবো পৃথিবীর রাজপথে,
কতদূর যাবো বল, কত ক্রোশ দূরে?
শৃঙ্খলিত হতে হবে তোমার প্রভুর ক্রোধে
তার দাসত্বে, তার ক্লেদাক্ত পা লেহনে
প্রতিটি মুহূর্তে বেঁচে থাকার অসহায় চেষ্টা!
বল, কোন পৃথিবীতে যাবো, কোন দেশে?
আমি বরং এই স্বপ্নেই থেকে যাই
তোমরা বারেবারে করাঘাত করবে-
এই মায়াজালের অদৃশ্য দেয়ালে
আমি ছুটতে থাকবো অসীমে, অবিরত-
এক আসমান থেকে অন্য আসমানে!
তোমরাও পিছু নেবে পাশবিক চিৎকারে
আমি ছুটতেই থাকবো, আমাকে ছুটতেই হবে!
শিরোনামহীন-১
দীর্ঘ যুদ্ধের পর
ক্লান্ত সৈনিক মরু প্রান্তর পেরিয়ে
নির্বাক এক প্রস্তর
খন্ডের পাশে একটু আয়েশে
বসতে গিয়ে চোখ পরে এক
পাহাড়ী ফুলে।
খুব সাদামাটা, হালকা এক রঙ্গে রাঙ্গা
-তবুও কি অদ্ভুত এক
প্রশান্তি দেয়।
সৈনিক এক গভীর শ্বাস ফেলে-
মেঘে ঢাকা আকাশের দিকে
চেয়ে-
ভাবে, 'বাহ! জীবন বড় সুন্দর'।
আমি ও বারে বারে তোমার
ওই নিস্পাপ মুখে
আমার জীবনের অর্থ
খুঁজি।
নিজের কাছে নিজেই বলি
ক্ষণে ক্ষণে-
বেঁচে থাকাটা বড়
আনন্দের!
তোমার জন্য!
আমি তোমাকে ঘিরে আবর্তন
করতে থাকি
নিজ কক্ষপথে বিরামহীনভাবে
অনন্তকাল ধরে।
আমাকে টলাতে পারেনি
কোনো পথহারা গ্রহাণু
কিংবা অনেক পথ পাড়ি
দেয়া কোনো ধূমকেতু!
আমি নিবিষ্ট মনে তোমার
দিকে চেয়ে থেকেছি
আমার দৃষ্টি সরিয়ে নিতে
পারেনি উজ্জ্বল নিক্ষত্র
সর্বশক্তি দিয়েও টেনে
নিতে পারেনি কোনো কৃষ্ণগহ্বর!
আমি আমার আলোয় তোমার
আলোকিত করেছি!
কিন্তু তারপরেও তুমি
নেবুলার মত উন্মাতা
লতুমি তেজস্ক্রিয়, তুমি মৃত নক্ষত্রের মত
দূর্বার!
তুমি মহাবিস্ফোরণ থেকে
ছুটে চলেছ অক্লা
ন্তআলোর গতিকে হার
মানিয়ে তুমি হতে চাও অসীম!
কাল পেরিয়ে, মাত্রা ভেঙ্গে হতে চাও
অবিনশ্বর।
আমার হয়তো তোমাকে দিতে হবে
ছুটি!
নিজেই নিজেকে করব ধ্বংস, ঘটাবো সুপারনোভা
তোমার জন্য থাকবে আমার
মৃত আলোকরশ্মি!
তোমার আমার শহরে
ধর, তোমার জন্য আমি একটি শহর বানিয়ে ফেললাম
যেখানে কেউ থাকবে না,থাকব শুধু আমি আর তুমি।
যে শহরেরে দালানের প্রতিটি ইট হবে আমার নকশায়,
এ শহরেরে প্রতিটি ল্যাম্পপোস্ট থাকবে তোমার ইশারায়!
আমার শার্টের কোণায় লিপস্টিক লাগানোর
জন্য থাকবে না কোনো লাস্যময়ী নারী!
অথবা তোমার দিকে আড়চোখে তাকানোর
মত বখাটে থাকবে না এই শহরের অলি-গলিতে!
এই শহরে বর্ষা নামবে তোমার ইচ্ছায় অযথাই,
এই শহরে জ্যোৎস্না নামবে প্রতি অমাবস্যায়!
তোমার জন্য নক্ষত্ররা জ্বলবে সারাবেলা,
তোমার জন্য সূর্য উঠবে দখিনের জানালায়!
ধর, এমন করেই কেটে যাবে এই বেলা
শুধু আমি আর তুমি,যেমন বলে কবিরা।
তোমার আমার এই অলৌকিক শহরে
আমার তোমার বসবাস আমার কল্পনাতে!
No comments:
Post a Comment